আমাদের 'শায়েখ' বিড়ম্বনা,
মুহাম্মদ ইকরামুল হক,
শিক্ষার্থী,ঢা.বি.
'শায়েখ' উপাধি আমাদের আশেপাশে অনেকের নামের আগেই অধুনা শোভা পাচ্ছে। শব্দটা অনেক গুরুগম্ভীর বৈকি; এলমের নহর,বুজুর্গির বহর,পোশাকের আলোচ্ছটাময় প্রহর,কায়দাকানুন চারণে পরিপূর্ণ ঠাহর - কী সুপ্ত নেই এহেন তুঙ্গ শব্দে!
মুন্সি,মোল্লা,মওলানা,হুজুর ইত্যাকার শব্দের চেয়ে 'শায়েখ' এর কদর বেশি এটাই এই শব্দের বাজারদর বেড়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ নয়, আরেকটি আতঙ্কজনক বিষয় হচ্ছে যে এই শব্দের মধ্যে যেন ঘাপটি মেরে আছে উপনিবেশিক চর্চা: ইতর-ভদ্র,কুলিন-অকুলিন,উন্নত-অনুন্নত,পন্ডিত-মূর্খ এমন পার্থক্যসূচক চিন্তা।
'শায়েখ' উপাধিধারী ব্যক্তি নিজেকে একটু এলিট ভাবা দোষের কিছু মনে করেন না নিশ্চয়ই, সাথে আছে তার হাব-ভাব,জুব্বা-আসকান,অনেকের মাথায় আবার স্থান পায় সফেদ কাপড়ে নানা বর্ণের সুতাযোগে তৈরি মিহি বুননের প্রলম্বিত ঘোমটা।
জনমানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ কম, ফলে তারা মানুষের আবেগ,ভালবাসা,বৈচিত্র্যময় জীবন,চিরায়ত আচার ইত্যাদি উপলব্ধি ব্যতিরেকে নানা শাস্ত্রীয় সূত্র যোগে প্রাত্যহিক নানা মুশকিলের সহিহ(?) সমাধান দিয়ে থাকেন।তারা এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছেন যে আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে যে মানুষের সহজাত জীবন-বিধান হিসেবে ইসলামের কোমল দিকটি আদৌ রক্ষা পাবে কিনা।
মানুষের মন:রসায়ন থেকে যাদের অবস্থান যোজন যোজন দূরে সেইসব 'শায়েখ'দের চেয়ে গণমানুষের যাপিত জীবনের প্রত্যক্ষ সাথী 'হুজুর'রা ইসলামের পক্ষে অধিক কল্যাণকর বৈকি।


No comments