মহানবী (স:) এবং আন্তঃ ধর্মীয় সম্প্রীতি,

মো. ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঈসা মসীহের উর্ধারোহণের পর দীর্ঘদিন কোনো নবী না থাকায় আরবে যে যুগের প্রচলন ঘটেছিল তা জাহেলিয়া যুগ বলে সকলেই জানি।জাহেলিয়া যুগ এইজন্য বলা হয় যে, এমন কোন নিকৃষ্ট কাজ নেই যা আরব জাতি করেনি।মদ, জুয়া,কন্যা শিশুর জীবনাবসান, পরস্ত্রী হরণ, হালের ক্যাসিনো সহ যেকোনো ধরনে জঘন্য কাজ আরবে হতো। এছাড়া গোত্রে গোত্রে দাঙ্গা লেগেই থাকতো।এমন সময় একজন ত্রাণকর্তার অনুভব করছিলো আরবেরা।পবিত্র বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আগমনের আগাম বার্তা দিয়েছিলেন খ্রিস্টান পাদ্রি বুহাইরা। তার ভবিষ্যৎ বাণী সত্য হলো। গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নিলেন জগতের সেরা মানব আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাসিম যিনি রাহমাতুল লিল আলামিন নামে পরিচিত। আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালবেসে নাম দিলেন আহাম্মদ।আর তার দাদাজান তাঁর নাম দিলেন মুহাম্মদ। আরবের মরুর বুকে জন্ম নেয়া এই ছেলেটি একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানবের জায়গা দখল করেছিলেন তা সর্বজন কর্তৃক স্বীকৃত। মাইকেল এইচ হার্ট নামে এক ভদ্র লোক একটি বই লিখিছিলেন যেখানে জগতের শ্রেষ্ঠ ১০০ মানবের জীবনী স্থান পেয়েছে এবং সেখানে সবার উপরে রয়েছে এই মুহাম্মদ (স.) এর নাম। তিনি একজন দক্ষ শাসক, দক্ষ সেনাপ্রধান, সুযোগ্য স্বামী, আদর্শ পিতা, ভালো বন্ধু, উত্তম পথ প্রদর্শক ইত্যাদি। হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন আন্তঃ ধর্মীয় সম্প্রীতির ধারক বাহক।আমরা যদি কয়েকটি বিষয় লক্ষ করি তাহলে দেখবো তিনিই ছিলেন সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ। প্রথমত: তিনি মদিনায় দুনিয়ার ইতিহাসে প্রথম কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেন এবং তিনি হলেন সেই নবগঠিত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। তার রাষ্ট্রে যে শুধু মুসলিমরাই ছিলো এমনটা নয়। সেখানে ছিলো ইহুদি নাসারা এবং অন্যান্য ভিন্ন মতাবলম্বীরাও।মহানবী (স.) একজন ধর্ম প্রচারক হয়েও তিনি কখনোই অন্য ধর্মের কারো কোনো ক্ষতি করেনি।তাকে যে আল আমিন বা বিশ্বাসী এবং সাদিক বা সত্যবাদী উপাধি দেয়া হয়েছিলো তা কিন্তু তার ভিন্নমতের লোকেরাই দিয়েছিলো।তিনি ধর্ম বর্ণ না দেখে মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেছেন।দিয়েছেন শাসকের সেবা।তার কোর্ট ছিলো মসজিদে নববী। দ্বিতীয়ত: বাল্যকালে হযরত মুহাম্মদ স. প্রতিষ্ঠা করেন সমাজ কল্যাণ বা শান্তি সংস্থা যা হিলফুল ফুজুল নামে সমধিক পরিচিত। এই সংগঠন মক্কা নগরীর প্রত্যেকের কল্যাণে কাজ করেছে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয়। তৃতীয়ত: ৫৮৭ খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ স. পৌত্তলিক কুরাইশদের সাথে করেন ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি যা পবিত্র কুরানে ফাতহুম মুবিন নামে উল্লেখ করা হয়েছে।এখানেও দেখা যাচ্ছে রাসুল স. ভিন্ন মতাবলম্বীদের সাথে মিলিত হয়েছেন এবং সৌহার্দপূর্ণ জীবন যাপন করেছেন। চতুর্থত: আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরানে ঘোষণা দেন তিনি রাহমাতাল লিল আলামিন।তিনি জগতের সকল কালের সকল মানুষের। এখানে শুধু মুসলিমদের কথা বলা হয়নি।তিনি সকলের জন্য হেদায়েত স্বরুপ।

পঞ্চমত: আমরা যদি দেখি হযরত মুহাম্মদ স. পৃথিবীর ইতিহাসে সেরা ভাষণ দিয়েছিলেন বিদায় হজ্বে আরাফাতের ময়দানে লাখো জনতার সামনে। সেখানে তিনি উচ্চবাক্যে বলেন ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করিওনা কারণ ইতোপূর্বে অনেক জাতি এর জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে।এড়াও বিদায় হজ্বে তিনি ন্যায় বিচার, সমাজ নীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ইতিহাসে একেবারেই বিরল।

ষষ্ঠত: রাসুল স. যখন রক্তপাতহীন মক্কা বিজয় করলেন তখন পৌত্তলিকদের বললেন, যারা পবিত্র মক্কা নগিরীতে আছেন তারা নিরাপদ, যারা মসজিদে হারামে আছেন তারাও নিরাপদ, যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে আছেন তারাও নিরাপদ।এমন অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে যা দিয়ে বুঝা যায় হযরত মুহাম্মদ স. ছিলেন একজন মানবতা বাদি, ইতিহাস সেরা ব্যক্তিত্ব।

আজ আমরা তার শিক্ষা থেকে দুরে সরে যাচ্ছি বলেই জগতে এতো অশান্তি। উদাহরণ স্বরুপ ভারতে বিজেপি সরকার মুসলিম নাম পরিবর্তন,বাবরি মসজিদ ইত্যাদি ইস্যুতে এক ধরণের সামপ্রদায়িক অবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে। সিরিয়ায় কুর্দি মারা যাচ্ছে।আই এস ধ্বংস লীলা চালাচ্ছে।দেশে দেশে অশান্তি, বৈষম্যে জগৎ হয়েছে বিষাদময়।জগতে পাখিদের নীলাকাশও বিষাক্ত হয়ে গেছে এ থেকে পরিত্রাণের প্রধান উপায় হলো মহানবীকে ভালবাসা এবং তার পথ অনুসরণ করা।তাহলে থাকবেনা আর জাতি,ধর্ম,বর্ণ, ধনী, গরীব ভেদাভেদ এবং জগত হবে ব্রহ্মময়।
আজ ১২ রবিউল আওয়াল,মিলাদুন্নবীতে শপথ হোক রাসুলের আদর্শ অন্তরে ধারণ করা।

ঘরে বসে অরিজিনাল শাওমি রাউটার কিনুন বিডি শপ থেকে

No comments

Powered by Blogger.