বিদেশে উচ্চশিক্ষা (২য় পর্ব)

হাভার্ড ইউনিভার্সিটির কনভোকেশন

বিদেশে উচ্চশিক্ষা (২য় পর্ব)

স্কলারশিপ পেতে যেসব গুণাবলী আবশ্যক?

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আমাদের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই যে আমাদেরকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পড়াতেই হবে। সেহেতু সেখানে পড়তে হলে আমাদের নিজস্ব কিছু যোগ্যতা লাগবে যেন তারা আমাকে নিয়ে পড়াতে একটুও চিন্তা না করে। তাহলে আমাদের যোগ্যতা সম্পর্কে ঝটপট জেনে নিই।

১. ভালো সিজিপিএ,

বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়। ভালো সিজিপিএ থাকলে সাধারনত ধরে নেয়া হয় আপনি ভালো স্টুডেন্ট। সেহেতু আপনার উচিত হবে বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার জন্য নিজের সিজিপিএ যথাসম্ভব ভালোর ঘরে রাখা।এস এস সি এবং এইচ এস সিতে ৪.৫০+ অথবা এর বেশি থাকলে স্কলারশিপ পাওয়া যায়।অনার্সে ৩.৫০+ অথবা এর আশেপাশে থাকলেই সাধারণত স্কলারশিপ পাওয়া যায়।তবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে চাই ভালো সিজিপিএ।যাদের কম সিজিপিএ তাদেরও হতাশ হওয়ার কোন দরকার নেই।এদের স্কলারশিপের জন্যে দুই একটা এক্সট্রা কোয়ালিটি থাকলেই কম সিজিপিএ তেও স্কলারশিপ মিলবে।

২.ভালো রিকমেন্ডেশন লেটার,

ভালো রেকমেন্ডেশন লেটার এর জন্য সবসময় ২-৩ জন প্রফেসরের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করতে হবে। কারণ ভাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারী শিক্ষার্থীর কোথা থেকে আসছেন এবং তার রিকমেন্ডেশন লেটার এ কি লেখা আছে সেদিকে অনেক গুরুত্ব দেয়।সে ক্ষেত্রে যদি ভাল সম্পর্ক থাকে তাহলে সেই প্রফেসররা আপনার রিকমেন্ডেশন লেটার টা উপস্থাপনযোগ্য করে তারা সময় নিয়ে লিখে দিবেন।আর যদি আপনি আপনার বিষয় ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশে যেতে চান তাহলে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং পরিচিত কারো কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার নিতে পারেন।

৩.জিআরই,জিম্যাট,আইএলটিএস-এ ভালো স্কোর,

বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই জিআরই, জিম্যাট, আই এল টি এস এ ভালো স্কোর থাকা অবশ্যক। জি আর ই তে ভালো স্কোর থাকলে আপনি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন।ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত জি এর ই স্কোর ৭০০ চেয়ে থাকে। আই ই এল টি এস এ সাধারণত ৬.৫ এর ওপরে পেলেই আপনি স্কলারশীপ পেয়ে যাবেন। জিম্যাট এর স্কোর ৬৫০ থেকে এর উপরে ৮০০ পর্যন্ত যত পাবেন ততই ভালো। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চান সেখানে কোনটার স্কোর লাগবে সেটা আগে ভালো করে জেনে-বুঝে তবেই সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।

৪.পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় নিয়ে গবেষণা করুন,

আপনার যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয় নিয়ে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় নিয়ে গবেষণা করুন। গবেষণার জন্য ইন্টারনেট,সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কোন শিক্ষার্থী,বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য কিছু কনসালটেন্সি ফার্ম রয়েছে এদের কাছেও যেতে পারেন।কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগবে,কি কি থাকতে হবে,পাসপোর্ট- ভিসা,এপ্লাই ডেট, কোন কোন মাসে তারা আবেদনপত্র গ্রহণ করে,এসব বিষয়ে একটা ভাল ধারণা নেন। এসব বিষয়ে মোটামুটি কিছুদিন সময় দিয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় টার্গেট করে প্রস্তুতি নিতে থাকুন সময় হলে স্বপ্ন পূরণ হবে।

৫.স্কিল এবং এক্সট্রা এক্সকারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস,

বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য নিবন্ধ জমা দিতে হয় যা ভর্তিপ্রক্রিয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিবন্ধ লেখার স্কিল বাড়ানোর জন্য সাধারণ স্যাম্পল গুলো দেখে দেখে চর্চা করুন যেন নিবন্ধ লেখায় নিজের স্বকীয়তা তৈরি হয়।এটি আপনার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সহজেই প্রফেসরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। পার্সোনাল স্টেটমেন্ট লিখে জমা দিতে হবে।আপনি যেখানে পাঠাবেন সেখানে আপনি কোন কোন প্রজেক্টে যেতে চান এবং কি কি কাজ করতে চান সেসবে গুরুত্ব দিতে হবে।যে কাজটি করতে চাচ্ছেন সেটি করার জন্য আপনার যেসব যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা আছে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস পছন্দ করে।সেক্ষেত্রে বিতর্ক,সামাজিক কোন সংগঠন,প্রোগ্রামিং,ভ্লগ মেকিং,সাংবাদিকতা,একাধিক ভাষা জানা,পরিসংখ্যানে ভালো ধারনা রাখা,প্রয়োজনীয় কিছু কোর্স করা ইত্যাদিতে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন।তবে অবশ্যই আপনার যেক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট বেশি থাকবে সেটাই ভালোমতো করবেন।নিজের ইচ্ছার প্রাধান্য দিয়ে দেখেশুনে আগান জয় আপনার হবেই ইনশাআল্লাহ।
অরিজিনাল মি ব্যান্ড-৪ ৩৬% ডিস্কাউন্টে কিনুন বিডি শপ থেকে

No comments

Powered by Blogger.