বৃটিশ থেকে রামরাজ্য : মুসলিম ভাবনা।


শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বৃটিশ আমলে ভারতীয় মুসলিমরা দ্বিধায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল:
একদল মনে করত যে ইংরেজ বিতাড়নেই তাদের মুক্তি, অপরদল ভাবত যে ইংরেজরা থাকলেই বরং মন্দের ভালো;ইংরেজরা চলে গেলে হিন্দু শাসকরা আরো বেশি অত্যাচার করবে।পরবর্তীতে নতুন আরেকটি সুবিধাভোগী শ্রেণি গড়ে ওঠে যাদেরকে ইংরেজরা হয়তো কিনে নিয়েছিল নতুবা তারা নিজেদেরকে সাদা চামড়ার লোকদের কাছে সমর্পণ করেছিলেন। তারা ইংরেজদের কাছ থেকে আপসে নানা অধিকার আদায়ে চেষ্টা-তদবির চালাতেন। 

এই তিন শ্রেণির মধ্যে প্রথম শ্রেণিকে আজ আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি যাদের আত্মত্যাগ ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসনের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয় শ্রেণি নিজেরাই তাদের ভূমিকা নিয়ে কনফিউজড ছিল বিধায় তাদেরকে স্মরণ করতে বর্তমান জমানার লোকেরাও কনফিউশনে ভোগে, ফলে তারা অনেকটা অনালোচ্য। তৃতীয় শ্রেণির বোদ্ধারা ইতিহাসের নানা বইয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছেন ঠিক কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তাদের জায়গা হয়নি।

মোদির জমানায় এসে ভারতের মুসলিমরাও ঠিক একই অবস্থায় যেন পর্যবসিত হয়েছে।অনেকে মোদির গেরুয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অমানিশা আঁচ করতে পেরে প্রতিনিয়ত আরএসএস, বিজেপির বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুঁড়ছেন,অনেকে হীনমন্যতাবশত শক্ত অবস্থান দেখাতে অপারগতা দেখাচ্ছেন, আবার অনেকে আপসরফা পদ্ধতিতে সব মুশকিল আসান হবে এই আশায় বুক বেঁধে আছেন।

বাবরি মসজিদের রায়কে কেন্দ্র করে এদের সবার বেনেকাব চেহারা ইতোমধ্যেই উন্মোচিত হয়েছে।এদের সকলের ভূমিকাই হয়তো ভবিষ্যতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নির্ণীত হবে কিন্তু ইংরেজ আমলের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি যে অত্যাচারী ও চতুর শাসকের সাথে আপসে কদুর বদলে কলাও মিলে না।অন্যদিকে মহান চেতনায় উজ্জীবিত পুরুষ সংখ্যায় কম হলেও তাদের সেই আত্মত্যাগ ও গগনবিহারী মূল্যবোধ অত্যাচারীর তখতকে কাঁপাতে পারে,ইতিহাসে মহান বীরের তকমা লাভ করাতে পারে।এক আল্লামা ফজলে হক খায়রাবাদীর আদর্শ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে, আশা জাগায় যে হিন্দুস্তানে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর পায়তারা হয়তো এত সহজে সফল হবে না।

No comments

Powered by Blogger.