শীতে নিন বিশেষ দশটি যত্ন
বছরের অল্প কয়েক মাস আমরা শীতকাল পেয়ে থাকি। শীতে আসে নতুন ফল,শাক-সবজি,খেজুরের রস আরও কত কি। আমরা শীতকাল উদযাপনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়ে থাকি তন্মধ্যে পিঠা উৎসব খুব জনপ্রিয় একটি আয়োজন।
এতো আনন্দের মাঝেও শীত আমাদেরকে অনেক চিন্তায় ফেলে বটে। শীত আসলেই বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ কমে যায় ফলে আমাদের ত্বক শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে যায়। আমরা অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি।
এর মধ্যে সুপরিচিত কয়েকটি রোগ হচ্ছে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, খুঁজলি, মাথাব্যথা, কানে ব্যথা, দাঁতের গোড়ালিতে ব্যথা, দাঁতের গোড়ালি দিয়ে রক্ত পড়া, চামড়া ফেটে যাওয়া ইত্যাদি।
আমরা সকলে এসব রোগ থেকে দূরে থাকতে চাইলেও যেন এরা পিছু ছাড়তে চায়না। আমাদের সচেতনতার মাধ্যমেই এসব রোগ থেকে আমরা দূরে থাকতে পারি। তাই আজকে জানব কিভাবে শীতে আমরা আমাদের বিশেষ যত্ন নেব।
১.শীতের পোশাক পরিধান করা: আমরা অনেকেই ঘরের মধ্যে শীতের পোশাক পরিধান করতে অনীহা বোধ করি। ভাবি যে, ঘরের মধ্যে তেমন ঠান্ডা নেই শীতের ভারী কাপড় না পড়ে হালকা কাপড় পড়ি। কিন্তু ঘরের মধ্যে হালকা শীত লেগে লেগে আমাদের সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই আমরা ঘরে এবং বাহিরে উভয় জায়গাতেই শীতের পোশাক পরিধান করব।
২.মধু পান করা: ঠান্ডা থেকে বাঁচতে মধুর কোন বিকল্প নেই। তাই শীতে ঠান্ডা লেগে গেলে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা মধু পান করতে পারি। মধুতে রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক গুণাবলী। যেসব গুণাবলী আমাদের শরীরকে শীতের মধ্যেও গরম রাখতে সাহায্য করে। তাই শীতের মধ্যে প্রতিদিন দুই বেলা মধু পান করা প্রয়োজন।
৩.তেল, ভেসলিন এবং লোশন ব্যবহার করা: আমরা গোসলের অথবা ওযু করার পরে তেল, ভেসলিন অথবা বডি লোশন ব্যবহার করতে পারি। যেন আমাদের শরীরের কোন অংশ রুক্ষ না হয়ে যায়। অলসতার কারনে দেখা যায় অনেকে ভেসলিন লাগান না ফলে পা ফেটে যায়। পরবর্তীতে পায়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষ রক্তপাত হয়। তাই তেল, ভেসলিন অথবা বডি লোশন নিয়মিত ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী।
৪.চা পান করা: শীতের মধ্যে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে চায়ের কোন বিকল্প নেই। দিনে যতবার শরীর অসার হয়ে আসবে ততবার চা পান করা যেতে পারে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা মাত্রাতিরিক্ত না হয়। অবশ্যই চিনির পরিমাণ কম রেখতে হবে। অতিরিক্ত গরম চা পান করা যাবে না। হালকা ঠান্ডা করে এরপরে পান করতে হবে। দিনে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ কাপ চা পান করা যেতে পারে।
৫.কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা: সারাদিনে আমাদের দেহে ৫ থেকে ৭ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের দিনের বিভিন্ন সময় পানি পান করতে হয়। শীতের দিনে পানি আমরা যেখানেই রাখি তা পরিবেশের তাপমাত্রায় চলে যায় ফলে পানি প্রচুর ঠান্ডা থাকে। পানি পানের আগে তাই গরম করে পান করুন অথবা পানি গরম করে ফ্লাস্কে রেখে পান করুন। অন্যথায় গলা ব্যথা, টনসিল, দাঁতের গোড়ায় ব্যথা বা গোড়ালি দিয়ে রক্ত পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। দাতের এই সমস্যা থেকে বাঁচতে দিনে দুই বেলা লবণ এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলিকুচি করতে পারেন।
৬.গোসলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার না করা: শীতে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে আমাদের ব্রেন চাপে পরতে পারে ফলে আমাদের শরীর অসার হয়ে যেতে পারে। তাই গোসলের আগে পানি গরম করে নিন।
৭.শীতের জন্য বিশেষ টুথপেস্ট ব্যবহার করা: সাধারণত টুথপেস্টে মেন্থল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফলে দাত ব্রাশ করার পরে মুখের মধ্যে ঠান্ডা একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়। শীতকালে ঠান্ডার মধ্যে আরও ঠান্ডা অনুভূত হলে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই যেসব টুথপেস্টে মেন্থলের পরিমান কম সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
৮.দ্রুত ঘেমে যাওয়া স্থান পরিষ্কার রাখা: শীতকালে শরীরে পানি লাগানো একটি আতংকের নাম। তাই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকের পক্ষে গোসল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে শরীরের যে সকল স্থান দ্রুত ঘেমে যায় সেসকল স্থানে ময়লা জমে চুলকানি হয়। তাই গোসল করা সম্ভব না হলেও সকল দ্রুত ঘেমে যাওয়া স্থান পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৯.ধূমপান না করা: ধূমপান এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান করলে ফুসফুসের সমস্যা হয়। বিশেষ করে এই শীতে ধূমপান করলে ব্রংকাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই যতটুকু সম্ভব ধূমপান থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
১০.সরিষার তেল ব্যবহার করা: সরিষার তেল খুবই কার্যকরী একটি তরল। এই তেল ব্যবহার করলে ঠান্ডা দূর হয়। গোসল করার আগে সরিষার তেল ব্যবহার করলে শরীরে ঠান্ডা কম লাগে, নাক বন্ধ হয়ে গেলে সরিষার তেল এক ফোটা নাকে দিলে নাক ঠিক হয়ে যায়। আলু ভর্তা, সালাদ সহ যেকোন ভর্তায় সরিষার তেল ব্যবহার করুন।





No comments