প্রত্যুষের রবি!

প্রত্যুষের রবি যেন উঁকি দিতে চায়,কিন্তু যতক্ষণে সে উঁকি দিবে ততক্ষণে এ শহরের স্বার্থপর ব্যস্ত মানুষেরা তাকে দেখে ফেলে।হয়না লুকিয়ে তার উঁকি দেয়া। যখন শহরের ইমারত গুলির এপাশে অন্ধকার ওপাশে আলো,ঠিক এই লগ্নে গাঁয়ের সবুজ শ্যামল প্রান্তর রবির সাথে সাক্ষাৎ শেষ করে নেয়। যখন শহুরেরা অফিস-আদালতে ছোটেন তখন গাঁয়ের চাষা ভায়েরা ছোটেন তাদের জমিতে।কেউ দেয় কলমের খোচা কেউ দেয় কাস্তের খোচা।কলমের খোচায় কোটি টাকা এদিক ওদিক হলেও কাস্তের খোচায় কি কিছু হয়?যাদের হাতে কলম তারা কি কাস্তের খোচার প্রকৃত মূল্য দেয়? শহর আর গাঁয়ের পার্থক্য কি শুধুই এটুকু? শুধুমাত্র দিনের শুরুর পার্থক্যকে বিশ্লেষণ করে শেষ করা আমার পক্ষে অসম্ভব।শহুরে জীবন অনেক কষ্টের আবার অনেকের কাছে আনন্দের।শহরে ধুলাবালির উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও কাদা আমাদের চরণদ্বয় স্পর্শ করতে পারেনা।শহুরে বাসায় বসে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এখন ভোগ করা গেলেও গাঁয়ে এখনও কষ্টের ছাপ রয়েই গেছে। এতেই কি আমাদের শহুরেদের সুখ? গাঁয়ের লোকদের ঋজুতার সাথে শহুরেদের মিল পাওয়া দায়।গাঁয়ের সবাই সবার খোঁজ নেয়,দৈনিক সাক্ষাৎ হয় অথচ এই যান্ত্রিক শহরে এমনও প্রতিবেশী আছে যাদের সাথে মাস,বছর,যুগ পার হলেও দেখা হওয়া দায়।গাঁয়ে বিপদে পড়লে আশেপাশের সকলে ছুটে আসে আর শহরে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়।কি লাভ এগিয়ে গিয়ে?বিপদগ্রস্ত লোক তো অপরিচিত গিয়ে কিছুই হবেনা উল্টো বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। রবি এতো বিশালাকার ধারণ করেও যখন দেয়ালের এপাশ -ওপাশের আলোকে এক পারেনি।আমরা কি পারবো,দেয়ালের ওপাশের মানুষের খোঁজ রাখতে? প্রত্যুষে শহুরে রবির কখনও হবেনা লুকিয়ে উঁকি দেয়া।একারণে সবসময়ই শহরে রয়ে যাবে আলো-অন্ধকারের খেলা।

No comments