ফুটবলের সুদিন কি আসবে?
মাহমুদ হাসান
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সদ্য সমাপ্ত হলো শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ। যাতে চ্যাম্পিয়ন হয় মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানু এফসি। যাদের ক্লাব ইতিহাসের ৬৩ বছরে এটাই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতা। আর নিজেদের মাঠে ২-১ গোলের হার নিয়ে টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে। এবার বলি কলকাতায় হয়ে যাওয়া কয়েকদিন আগের বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ম্যাচের কথা। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কোন ম্যাচ দেখছি। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। প্রতিটা আক্রমণই ছিলো অসাধারণ, আর সাথে ছিলো চোখ ধাঁধানো সব সেইভ। এককথায় বললে, একটা এশিয়ান সুপার ক্লাসিকো ম্যাচ দেখেছি। এমন ম্যাচ আমরা আরো বেশি করে দেখতে চাই।
বাজারে একটা কথা ভেসে বেড়ায়, বাংলার ফুটবলে দর্শক নাই। মানুষজন স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখে না। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ম্যাচ আর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ হয়ে যাওয়ার পর এ কথা আর বাজারে চলবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ প্রতিটা খেলাতেই গ্যালারি দর্শকে ভরা ছিলো। উদ্দীপনা ছিলো মনে রাখার মতো। যদিও ব্যবস্থাপনা ও আয়োজকদের নিয়ে ছিলো দর্শকদের নানান অভিযোগ। আর ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ছিলো আকুতি।
ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে; তাদের ফুটবল চর্চাটা হয় শহর বনাম শহর, কিংবা অঞ্চল বনাম অঞ্চলের। যার ফলে ইউরোপে গড়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার-লিভারপুলের মধ্যে চির প্রতিদ্বন্দ্বিতাম্পূর্ণ সব ফুটবল লড়াই।
প্রতিটা টিম নিজ নিজ শহরের প্রতিনিধিত্ব করে, আর ঐ শহরের সাপোর্টাররা নিজ টিমের জন্য দিয়ে যাচ্ছে বাঁধন ছেড়া সমর্থন। যার ফলে দিনদিন ফুটবল হচ্ছে তাদের অস্তিত্বের লড়াই।
সাম্প্রতিক কালে ইন্ডিয়াও তাদের ফুটবলের ফোকাসটা ধীরে ধীরে অঞ্চল আর শহরের দিকে নিয়ে এসেছে। আর এখন তাদের ISL (Indian Super League) হয়ে উঠেছে উপমহাদেশের সেরা লিগ। এটা কেবল শহর আর অঞ্চল প্রীতির কারণেই সম্ভব হয়েছে।
আজকাল মানুষ আবাহনী-মোহামেডান এর খেলা দেখতে যায় না, তাদের ম্যাচে মানুষজন আবেগ-উদ্দীপনাটা খোঁজে পায় না। কিন্তু ম্যাচটা যদি ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে কিংবা খুলনা-রাজশাহীর মধ্যে হতো। তাহলে কি নিজ শহরকে সাপোর্ট দিতে মাঠে দর্শক আসতো না? ঢাকা, চট্টগ্রাম বলে কি বাঘের গর্জন গ্যালিরিতে শুনা যেতো না?
যেতো। অবশ্যই যেতো। নিজ শহর দলের জন্য ঠিকই দর্শক মাঠে আসতো। জানান দিতো নিজ দল এর জন্য তাদের উৎসাহ উদ্দীপনার।
বাফুফে চায়লে ৮ টা শহর দল নিয়ে বিপিএল এর আয়োজন করতে পারে। যাদের মধ্যে প্রতিটা শহরে হোম-এওয়ে ম্যাচ হবে। সাথে FIFA, AFC এর নিয়ম অনুযায়ী টিমের একাডেমি হিসেবে আবাহনী, মোহামেডান, বসুন্ধরাসহ ৮ টা স্পোর্টিং ক্লাবকে ঐ ৮ টা শহর দলের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করে দিতে পারবে।
এতে শহর বনাম শহর খেলাও হবে, পাশাপাশি একাডেমিও মাঠে থাকবে, পাইপলাইন শক্ত হবে, দর্শকও আসবে নিজ শহরের টানে।
একাডেমি গুলোকে প্লেয়ার যোগান দিবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ছোটছোট ক্লাবগুলি। আর এভাবেই শেকড় থেকে শেকড়ে পৌছে যাবে বাংলার ফুটবল। আর ফিরে আসবে আশি, নব্বইয় দশকের ফুটবলের হারানো সেই জৌলুস।
ইউরোপিয়ান লিগের আদলে সার্কভুক্ত ৭ টি দেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ ১৪ টা টিম নিয়ে SCL (Saff Champions League) এর মতো আসর মাঠে নামানো যায়। টিম গুলোর মাঝে হোম-এওয়ে ম্যাচের মাধ্যমে এই আসর শুরু করা যায়। এতে উপমহাদেশের ফুটবল আরো বেশি দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠবে।
আর ফুটবল বিশ্বকাপে এশিয়ার ভূমিকা আরো বাড়বে। প্লিজ। ফুটবলের জন্য কিছু করুন।
সদ্য সমাপ্ত হলো শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ। যাতে চ্যাম্পিয়ন হয় মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানু এফসি। যাদের ক্লাব ইতিহাসের ৬৩ বছরে এটাই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতা। আর নিজেদের মাঠে ২-১ গোলের হার নিয়ে টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে। এবার বলি কলকাতায় হয়ে যাওয়া কয়েকদিন আগের বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ম্যাচের কথা। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কোন ম্যাচ দেখছি। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। প্রতিটা আক্রমণই ছিলো অসাধারণ, আর সাথে ছিলো চোখ ধাঁধানো সব সেইভ। এককথায় বললে, একটা এশিয়ান সুপার ক্লাসিকো ম্যাচ দেখেছি। এমন ম্যাচ আমরা আরো বেশি করে দেখতে চাই।
![]() |
| সবচেয়ে ভালো শাওমি মোবাইল চার্জিং এডপ্টর কিনুন বিডি শপ থেকে। |



No comments